শিল্প, শিল্পী আর সংস্কৃতি

শিল্পী, শিল্প আর সংস্কৃতি নিয়ে ধারনা

শিল্প শিল্পই, শিল্প নিয়ে মন্তব্য করার আগে শৈল্পিক মন থাকা চাই। স্ট্যাচু বলুন আর ভাষ্কর্য বলুন, এর সবই তো শিল্প।
 
শিল্পীর কাজ শিল্প তৈরী করা। এ নিয়ে আর তেমন কিছুই তার করার থাকে না। শিল্প সাংস্কৃতিক এ যুগে যা দেখলাম তাতে একটা সমীকরন সিদ্ধ হয়- বাঙ্গালী আর বাংলাদেশীদের কেন এত তফাৎ!
 
গ্রীক দেবী নিয়ে হয়ে গেল হইচই। শেষ হয় নি মনে হয়। অনেকেই বলেছেন, এটা গ্রীক দেবী টেবি কিচ্ছু নয়। কাল দেখলাম গ্রীক দেবীর পরনে শাড়ি নেই, আর আমাদের দেশের এই ভাষ্কর্যে শাড়ি আছে- এটাই ব্যবধান।
 
তাই বলে এ দেশের কোন তৈলচিত্র আঁকা শিল্পী কি মোনালিসার ছবি আঁকতে পারে না? সেটাতো ভীন দেশের একজন শিল্পীর কাল্পনিক কিছু।
 
কপি পেষ্ট অনেক সময় শিল্প হয়ে যায়। তাতে কি? মঞ্চে যারা গান গায় তারা কি তখনি বসে বসে গান রচনা করে? গান যা এতদিন শুনেছে তারই দু’চার লাইন গেয়ে দিয়ে হিট হট হয়ে বাসায় চলে আসেন। হাত তালি দিতে হয়। কপি বা অনুকরন করাও একটা শিল্প। সবাই পারে না। পারলে শিল্প হতো না।
 
অভিনয়ের কথাই ধরুন, ক’দিন আগে পূর্নিমার দারুন অভিনয় দেখলাম মেরিল প্রথম-আলো এর অনুষ্ঠানে। একই অভিনেত্রী শাবানা, মৌসুমী, শাবনূর আর ববিতাকে অনুকরন করেছেন। অসাধারন মজা পেয়েছেন উপস্থিত দর্শক। মজা না পাবার কোন কারন ছিলো না। খুবই দক্ষতার পরিচয় দিয়েছেন।
 
শিল্পকে প্রয়োজন মনে না করতে পারলে সেটা হারাবেই। যেমন দাঁত থাকতে দাঁতের মূল্য আর কে দেয় বলুন? যে দেয় তার দাঁত বুড়ো বয়সেও সচল থাকে। আমাদের বুড়োবুড়িদের দেখুন, দাঁত নেই কারোরই। শিল্পপতি আছেন দেশে, অর্থপতি, কোটিপতি আছেন। কিন্তু শিল্প সংস্কৃতি নেই তো!
 
তার মানে কি আমাদের সংস্কৃতি-পতির অভাব?
 
আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি কী শিল্পী কেউ জানেন? পোশাক শিল্পী। তারা পোশাক বানায়। আরো আছে তাঁত শিল্পী। নৃত্য শিল্পী, কন্ঠ শিল্পী, রন্ধন শিল্পী। আছেন ভাষ্কর্য শিল্পীও। এত শিল্পীর ভিড় ঠেলে বছরে দু’এক বার কারা পত্রপত্রিকার পাতার কিনারায় দৃশ্যমান হয় বলতে পারেন?
তারা নির্যাতিত পোশাক শিল্পী, বেতন ভাতার জন্য আন্দোলন করেন।
 
শুরুর লাইন দিয়ে শেষ করা দরকার, শিল্প বুঝতে হলে শৈল্পিক মন থাকা লাগে। প্রত্যেক মানুষই নগ্ন ছিলেন, আবার হয়ত নগ্ন হবেন। নগ্নতাও একটা শিল্প তার কারন, আমরা নগ্নতাকে সাপোর্ট করেছি। আমরা যা দেখে বিমোহিত হই তাই একদিন শিল্প হয়ে আমাদের চারপাশে ঘুরতে থাকে। তবুও একেক দেশের শিল্প হবে একেক রকম। বাংলাদেশের শিল্প হবে বাংলাদেশের মতই। শিল্পকে শিল্প দিয়ে মোকাবেলা না করে আন্দোলন বা ক্ষমতা দিয়ে মোকাবেলা করা হচ্ছে। তার কারন হয়ত শৈল্পিক জ্ঞানের অভাব!

Save