মশা নিয়ে মশকরা

মশা নিয়ে সোশ্যাল লিংক, মশা নিয়ে মশকরা!

সোশ্যাল নেটওয়ার্ক ফেইসবুক থাকায় আমাদের অন্যতম সুবিধা হয়েছে। যখন যা ইচ্ছা আলোচনা করতে পারছি। অনেকেই ব্যস্ত কেকা ফেরদৌসি রেসিপি নিয়ে। আবার বেশিরভাগ মানুষই ক্রিকেট জ্বরে উত্তপ্ত আছেন। এসবের মধ্যেই আজ মশা বিষয়ক আলোচনা করা দরকার মনে করছি।  তার আগে মশাদের জীবন নিয়ে কিছুটা ভাবা যাক। মশা নিয়ে মশকরা!

মশা একটি ভয়ানক প্রানী! প্রতিবছর প্রান নাশের কাতারে এর নামও উল্যেখ থাকে।

মশা রক্ত চুষে বেঁচে থাকে। এর এমন স্বভাব যে সাপ হোক আর ইঁদুর হোক কাউকেই রেহাই দেয় না রক্ত চোষা থেকে। এটাও একটা ভয়াবহ ব্যাপার যে মশারা সব প্রানীদের শরীরেই বসে নানান জীবানু বয়ে বেড়ায়।

মশাদের নিয়ে অত গবেষনা না হলেও খুব  কমওহয় নি। ব্রিটিশ ডাক্তার স্যার রোনাল্ড রোসস আবিষ্কার করেছিলেন, নারী মশারা ম্যালেরিয়া ছড়ায়। ১৮৯৭ সালে। তারপর থেকে ২০শে আগষ্ট বিশ্ব মশা দিবস পালন করা হয়। গবেষনার আরো ফলন আছে, যেমন ডেংগু,  যিকা ভাইরাস সবার শেষে চিকনগুনিয়া এর সবই আসলে মশার সহযোগীতায় মানব শরীরে এসেছে। এছাড়াও গবেষনা করা হয়েছে, ইনজেকশনের সুঁচ দিয়ে যদি এইচআইভি(HIV) ছড়ায় তবে মশার মুখ দিয়ে নয় কেন? এর সুন্দর ব্যাখ্যা দিয়েছেন Bill Bryson তার বই A Short History of Nearly Everything এ। মশাদের মুখের টিউবটি দ্বিস্তর ভিত্তিক তাই  যে ম্যাকানিকেল পদ্ধতিতে মশা মানুষের রক্ত নেয় তাতে এইচআইভি(HIV) ছড়াতে পারে না। তাছাড়াও মানুষের রক্তে এইচআইভি(HIV) ভাইরাসের খুবই কম পরিমানে ব্যাপ্ত থাকে।

গবেষনা বাদ দিয়ে মজার আলোচনায় ফিরে আসি। মশাদের জন্য অনেক আগে থেকেই আমাদের সমাজে নিরাপত্তার চেষ্টা চালানো হয়েছে।  মশারী নামই এসেছে এই মশার নাম থেকে। মশারী টানিয়ে নিজেদের নিরাপদ রাখার চেষ্টা অনেকটা সফল হলেও পারিবারিক জীবনে এর রয়েছে নানা জটিল মূহুর্ত। নব দম্পতিদের মধ্যে একবার হলেও ঝগড়া হতে হবে- কে মশারী টানাবে, এই নিয়ে। এছাড়াও আছে মশারীতে আগুন লেগে নানান দূর্ঘটনার খবর। এবছর এত গরম পড়েছে যে মশারী না টানিয়েই সবাই যার যার মত করে মশার কয়েল কিংবা ক্যামিকেল স্প্রে করে বাঁচার চেষ্টা করেছেন।

মশাদের উন্নতির কিছু কারন

মশাদের এখন আগের চেয়ে বেশি আরাম হয়েছে, তার কারন বাচ্চা বয়সেই তারা ক্যামিকেল বা স্প্রে’র স্বাদ পেয়ে এসবে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। আগে ম্যালেরিয়া রোগ ছড়াতো, এক প্রকারের জ্বরের নাম ম্যালেরিয়া। থেমে থেমে বাড়ত আর  জীবন অতীষ্ট করে তুলত। মেয়ে মশারা এর জন্য দ্বায়ী।

কালের বিবর্তনে সে ফিরে এসেছে ডেংগু জ্বর নিয়ে। ডেংগু নামক ভাইরাস  এডিস মশার মাধ্যমে ছড়ায়। এই জ্বর ব্রেকবোন ফিভার নামেও পরিচিত।

আবারো আমাদের দেশীয় কায়দায় জনমানুষের সম্মুখে এক বা একাধিক নগর কর্মচারী নাকে মাস্ক লাগিয়ে কী সব স্প্রে করতে থাকলেন সেই ডেংগুকে নিধনের জন্য। কিন্তু মশাদের জীবন শেষ হবার নয়। একটা মশা একশত থেকে তিনশত ডিম পাড়তে পারে। যাতে করে তাদের বংশ আরো দ্রুত বেড়ে উঠছে। একেক ঘরে পরিবারের সদস্যদের সংখ্যার সাথে  উপস্থিত মশাদের অনুপাত প্রায় ১ঃ১০০ ।

চিকনগুনিয়া বাংলাদেশে এখন খুব  পরিচিত একটি  জ্বর যার ফলে অনেক বেশি চর্ম রোগের মত হয়। এর জন্য জ্বর প্রথম দিনেই প্রায় ১০৪ বা ১০৫ ডিগ্রী ফারেনহাইট হয়ে যায়। ২০১২ প্রথম বাংলাদেশে এর প্রকোপ দেখা দেয়। ডেংগু বাহিত এডিস মশারাই এর বাহক।

মশা ধরা নিয়ে অনেক মজার ব্যাপার আছে। বন্ধু মহলে এক সময় প্রতিযোগীতা ছিলো- এক থাপ্পড়ে কে কয়টা মশা মারতে পারবে? এখনকার সময়ে মশারা হয়ত একই রকম প্রতিযোগীতা করে- কে এক ভাইরাসে কয়টা মানুষ মারতে পারবে?  কারন মানুষেরা আজকাল মশাদের নিয়ে ভাবে না, ভাবে ফেইসবুক, ক্রিকেট আর হিন্দি সিরিয়াল। কয়টা মশায় কামড় দিয়েছে কে দেখে?