অসহায় মানুষ

গরীব মানুষ, ধনী মানুষ, নীরিহ মানুষ বা অসহায় মানুষ!

গরীব মানুষের আয় করার চেষ্টা থাকে কম। দিন চলে গেলেই তারা খুশি। গরীব নিজের মধ্যে কিংবা তার আশেপাশে মূল্য হীন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকে। ঝগড়া করার মত মূল্য বিহীন ক্ষতির দিকেও তাদের প্রচন্ড আকর্ষন। গরীব ঝগড়া করতে ভালবাসে। আরাম করে, দারুণ ভংগীতে ঝগড়া করে একমাত্র গরীব মানুষেরাই। সময়ের জন্য কোন মায়া নেই তাদের।  যুগ যুগ ধরে গরীব গরীব হালেই থাকতে চায়। এজন্য এক গরীব অন্য গরীবকে আগলে রাখে, ঝগড়ার আঁচলে। গরীব মানুষ, তাদের গল্প এতটুকুই।

ধনী মানুষেরা পুরোটাই উলটা। তারা সারাদিন আয়ের চেষ্টায় থাকে। নিজের অভাব এত বেশি টের পায় যে তার ধন সংগ্রহ কিংবা আকাংখ্যা অত্যন্ত প্রখর। সব ধনীরাই একদিন গরীব থাকে। কর্ম আর চেষ্টায় এরা ধনী হয়ে ওঠে। ধনীরা আরেক ভাবেও ধনী হয়- তার নাম দখল, জুলুম আর ধোকাবাজি। সে যাই হোক চেষ্টা একদিন তাদের ধনের ভান্ডারে পরিনত হয়। আশা তাদের নিকট বেশি সুযোগ হয়ে দেখা দেয়। তাদের ধনী হিসেবে পেয়ে গরীবেরা মাথা নোয়ায়। সালাম দেয়।

নীরিহ মানুষের জন্য পড়ে থাকে সব মানুষের দোয়া। কোন সাহায্য পায় না এই সব মানুষ। এদের উপর ধনীরা শোষন করে, নিজেরা আরো ধনী হয়। নিজেদের অসহায় ভাবতে ভাবতে একদিন নীরিহ মানুষেরা গরীবের মত জীবন কাটায়। তবে গরীব হিসেবে নিজেদের বেশিদিন সহ্য করে না। আবার ফিরে পেতে চায়, নিজের অধিকার। এজন্য আন্দোলন হয়, নীরিহ মানুষ প্রান হারায়, ধনীদের তাতে কিছুই হয় না।

চট্রগ্রামে এক বেলা খাবারের জন্য মানুষের পদ দলিত হয়ে প্রায় দশ জনের মৃত্যুর খবর অনেকেই হয়ত পেয়েছেন। গরীব/নীরিহ মানুষগুলো এদেশে এভাবে মরেছে বহুবার। কখনো মরেছে ত্রাণ সামগ্রী সংগ্রহ করতে, কখনো যাকাতের উপহার নিতে, শীত বস্ত্র কিংবা কুলখানীতে গিয়ে, মাজারের তবারক নিতে গিয়েও অনেকেই মরেছেন। অনেক যুবক, বৃদ্ধ।

স্টীভ জবস এক সময় সেই দূরে উপাসনালয়ে যেতেন এক বেলা ভাল খাবারের আশায়। তার সেই খাবার খাওয়ার ইচ্ছা পূর্ন হতো। এক সময় তিনি তার অনেক আশা পূরনের মত ধনী হবার আশাটিও পূর্ন করেন। পরিবেশ সে দেশের হয়ত অনেক ভালো। আমাদের দেশের মত এমন দেশে এজন্যই হয়ত ভবিষ্যৎ মরে যায়, পদ দলিত হয়ে।