ঋন!

ঋন!

রেহমান সাহেবের কাছে কিছু টাকা আছে। টাকা নিয়ে বের হয়েছেন পান খাবেন। এখনো দোকানে দোকানে পানের খিলি কিনতে পাওয়া যায়। ভাত খাবার পর পান খেতে হয়। না খেলে কেমন যেন লাগে তার। এক খিলি পানের জন্য নিজের এই “কেমন” লাগাটা অভদ্রতা বলেই জানেন তিনি। তবু অভ্যাস হয়ে যাওয়ায় বদলাতে পারছেন না। চল্লিশের চেয়ে কিছু পুরনো এই অভ্যাস। চাইলেই বদলানো কি যায়?

এক খিলি পানের বর্তমান মূল্য পাঁচ টাকা। ভাংতি দিতে হয়। একশ/ পাঁচশ টাকার নোট দিলে দোকানী পানের খিলি মুখ থেকে বের করে নিয়ে নিতে পারে, বলতে পারে- আগে ভাংতি পাঁচ টাকা নিয়ে আসুন। এখনকার দিনে এরকম আচরন খুবই স্বাভাবিক। অস্বাভাবিক হচ্ছে সেটাই, ভাংতি না নিয়ে পানের খিলি কিনতে আসা। রেহমান সাহেবের অবস্থা আজ সেরকম। টাকা আছে পাঁচ শ। ভাংতি কোন টাকা নেই। এটিএম মেশিনে পাঁচশ টাকার নোট হচ্ছে সবচেয়ে ছোট মূল্যমানের নোট। তিনি সকাল বেলায় এটিএম মেশিন থেকে কচকচে একখানা নোট বার করলেন। মনে অনেক ভয় ছিলো- যদি জাল নোট বের হয়?

পান কিনতে এসেছেন যে দোকানে আজ সেখানে কিছুটা বেশি মানুষের জলসা হচ্ছে। অনেকেই পানের পিক ফেলে রাস্তার রঙ রক্তারক্তি করে ফেলছেন। সবাই পান কিনছেন সিগারেট কিনছেন আর পকেটে হাত দিয়ে ভাংতি টাকা বার করে দিয়ে চলে যাচ্ছেন। এটাই এই দোকানের নীয়ম। মনে মনে ধরেই নিয়েছে যে এই নীয়ম ভংগের কারনে আজ কী সব কথা যে শুনতে হবে!

তিনি পানের খিলি সুপুরি যোগে মুখে নিলেন। মনটা আবেগে কেঁদে উঠল। অভ্যাসে মগজ মস্তিষ্ক আর জ্বিহবা এক খিলি পানেরই অপেক্ষা করে। কত অসহায় তার দুপুরবেলা? অথবা সন্ধ্যা! যখনি পানের নেশা চাপে মুখের ভেতরে, লালার গ্রন্থিতে।

বিপত্তি হবার কথা ই ছিলো। টাকা দেবার সময়ে পকেট ঝেড়ে দেখালেন। নাই কোন ভাংতি টাকা। এখলাস তার সারাদিনে যত পান সিগারেট বেচেছে তার সব মিলিয়ে হাজার খানেক টাকা আছে। ভাংতি করে দেয়া যায়। কিন্তু পাঁচ টকার জন্য পাঁচশ টাকার ভাংতি? কোন গাধাই রাজি হবার কথা নয়।

স্যার একখান কাম করেন, টাকা সন্ধ্যায় দিয়া যাইয়েন। সুন্দর বুদ্ধি দিলো এখলাস দোকানদার।

রেহমান সাহেবের লাভ কি হলো? সে ব্যতিব্যস্ত হয়ে টাকাটা এখনি কিভাবে পরিশোধ করা যায় তার বেশ কিছু চেষ্টা করে গেল। এর কাছে ওর কাছে ভাংতি চাইল। লাভ হলো না। সব কিছু বিফলে ফেলে মাত্র ৫ টাকার একটি নতুন ঋনের বোঝা কাঁধে করে বাসায় ফিরলেন।

একটি গল্প চর্চা!