সেলফি বাজি

সেলফি বাজি !

আমার সেলফি নিয়ে মতামত কিছুটা দ্বিমত এর মত। তার কারন আমি সেলফি তোলাকে স্বাভাবিকভাবে লাইক করি না। কিন্তু দেখুন আমি নিজেও সেলফি তুলি। তবে খুবই সীমিত।  সেলফি বাজি করি না বলা যায়।(আজকের ফেইসবুকের প্রোফাইলে আমার সেলফি বাজি আছে)। তা আসুন আজ কিছু সেলফি নিয়ে আলোচনা করা যাক। সেলফি সব জায়গায় সমান জনপ্রিয় একটি ব্যক্তিগত অভ্যাস।

সেলফি বাজি অথবা সেলফি রহস্য

সেলফি বাজি

সেলফি তোলার সময় সবাই নিজেকে সেরা দেখাতে চায়। কিংবা ভিন্ন ভাবেও উপস্থাপন করতে চায়। কেউ দাঁত বের করে দেয়, কেউ চোখ ট্যারা করে ফেলে। আবার অনেকেই মুখের থুতনীকে এমন সরু করে যা খুবই অদ্ভুত দেখায়। ভেলকি বাজি ‘র মতই ব্যাপারটা পুরাই সেলফি বাজি। মনের তৃপ্তির জন্য অনেকেই সেলফি তুলে অধীর আগ্রহে থাকেন কখন লাইক শেয়ার এসব সংখ্যা অনেক বেশি হবে!

সেলফি বাজির কিছু উদাহরণ

দেখতে অসুন্দর হলেও লম্বা চুলে নাক মুখ ঢেকে ফলোয়ার বাড়াতে সেলফি তোলেন অনেকেই। লাইক ফলোয়ার সবই পান কিন্তু নিজেকে আর দেখাতে পারেন না। সেকি যন্ত্রনা!

সেলফি বাজি দিয়ে তারকা খ্যাতিও আছে। রেটিং গ্রেটিংস কিংবা গ্রেডিং পেরিয়ে যখন সেলফি নায়ক নায়িকা হয়ে গেছেন পাড়ার উন্মাদও তখন অতি সাধারনে প্র্যাকটিস শুরু হয়ে যায়। লম্বা সিরিয়ালে সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় শুধু সেলফি আর সেলফি। কিছুক্ষনের জন্য হলেও মিডিয়াটাকে সেলফি বাজি ‘র কারখানা মনে হয়।

এত কান্ড কারখানা নিয়ে যখন সেলফি বাজি প্রভাব ফেলেই দিলো তখন সেলফি ‘র কল্যানে অনেক ডিভাইস নির্মাতারা কিছুটা স্বস্তি পেল। আহা বাজার পাওয়া গেল। ট্রেন্ড চলে এল সেলফি স্টিক এখন হকারদের হাতে হাতে। সবাই কেনে, সবাই বেচে। যেন রাস্তায় খাবার পানি সেল হচ্ছে।

সেলফি বাজির ইতি কবে?

সেলফি বাজি ইতি টানবে বলে তো মনে হয় না। তবে এর বিকৃতি যে হবে তা নিশ্চিত। এখন তো চোখের নাকের আর থুতনীর নানা কারসাজি দিয়ে প্রায় সার্কাস দেখি। তখন হয়ত আরো অনেক অংগ ভংগিমায় যাত্রাপালাই দেখতে হবে।

উল্যেখ্য, আজ আমার সামনে প্রায় কুড়ি জনের সেলফি তুলতে দেখা গেছে। রিক্সায় তিনজন নারী যেভাবে সেলফি বাজিতে ব্যস্ত ছিল তাতে সমূহ সম্ভাবনা ছিলো চিনতাই বাজির শিকার হবার। হয় নি হয়ত। তাই সবাই সাবধানে সেলফি বাজির চর্চা করবেন এই কামনা করছি।