festivals

বাংলা নববর্ষ ১৪২৫ আসার আগেই!

চৈত্রের শেষ দিনে অফিসে যথা সময়ে উপস্থিত হতে পেরেছিলাম। অফিসে ঢুকতেই সবার আপত্তি ছিলো,  ভাইয়া পাঞ্জাবী কেন পরেন নি? পাঞ্জাবী আমার নেই বলেও পার পেলাম না। সবাই দেখলাম উদ্যোগী হয়ে আমাকে পাঞ্জাবী কিনে দিতে চাইল। আমি শেষে আসল কথাটা বলি- ভাইয়া, পাঞ্জাবী এই দেহে ফিট হয় না, তাই বাদ।

তারপরে শুরু হয়ে গেলো একালের একমাত্র জনপ্রিয় আয়োজন, ফটোসেশন এবং সেলফি সেলফি মেলা। মোবাইল ফোন আসার আগে মানুষের ছবি তোলার এত হিড়িক দেখি নি। সে যাই হোক। আমার ছবিও বাদ যায় নি। এদিক সেদিক মিলিয়ে ভালো ছবির ভান্ডার তৈরী হলো।

শুভ নব্বর্ষ

দুপুরে নামায পড়ার পরে অফিসের আয়োজনে খানাফিনার প্রয়োজনে যে যার মতো করে ক্যান্টিন দখল করে নিলো। আমি তখন ডাঃ আশরাফুল সাহেবের নির্দেশ পালনে সম্পূর্ন গিন্নি কর্তৃক আয়োজিত খাবার নিয়ে অফিসের এক কোনে লুকোনোর চেষ্টা করলাম। তবু রক্ষে নেই। আমাদের ফিনান্স আর শিফিং ইনচার্জ ধরে ফেললেন। তার আগে ধরে ফেলেছিলেন জিএম। সবাইকে আবারো একগাদা তথ্য জানাতে হলো। কেন বাসার খাবার খাচ্ছি, এসব। জিএম কিছুটা তাচ্ছিল্যের সাথেই বললেন, তুমি কি অফিসের আয়োজনে খুশি নও? খাবার খেতে পছন্দ করছ না? তাকে বুঝিয়ে বলার পর পরিবেশ ঠান্ডা হলো।

বিকেল বেলায় আবার আয়োজন ফটোগ্রাফী, ফটোসেশন। এবারের ফটোয় অফিসের সবাইকে থাকতে হবে। গেলাম। গিয়ে দেখি দাঁড়াবার জায়গাও নেই। শেষে গলা উঁচিয়ে কোন মতে ক্যামেরার দিকে তাকালাম। পরে ছবিতে দেখি আহা, মাথা দেখা যাচ্ছে। চেনা যাচ্ছে অন্তত।

এসবের মধ্যে দিয়ে দিনটি কিভাবে শেষ হয়ে গেলো। পুরনো একটি বাংলা বছর চলে গেলো! নতুন বছরের সূর্যোদয়ের অপেক্ষায় আছি। যারা এই লেখা পড়ছেন তাদের সবাইকে শুভ নববর্ষ!