সাফওয়ান

বছরের শুরু, দূঃখ সাথে নিয়ে জীবনেরও নতুন ভাবে শুরু!

বাংলাদেশে অনেক মানুষেরই জন্ম দিন হচ্ছে পহেলা জানুয়ারীতে। আমার বেলায় ভিন্ন। জানুয়ারী ঠিক আছে কিন্তু তারিখ আঠার। আবার দিন ছিলো শুক্রবার। বলতে গেলেই সরকারী সাপ্তাহিক ছুটির দিনেই আমি এই পৃথিবীতে চলে আসি। জন্মদিন তাই শুক্রবার আর আঠারো জানুয়ারী। আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ নেই জন্মদিন পালনের। কিন্তু না থাকলে কি, জন্মদিন, বিয়ের দিন কিংবা কারো মৃত্যুদিন এসব তো কখনোই ভোলে না কেউ।

১৭ ই জানুয়ারী কাজের মধ্যেই ছিলাম। আমার মনেই ছিলো না কাল আমার জন্মদিন। সারাদিন ছিলাম অফিসের বাইরে। কাজ ছিলো। কাজের মাঝেই খবর পেলাম ছোট ছেলের অবস্থা খুবই খারাপ। ডাক্তার হসপিটালে ভর্তি হতে নির্দেশ দিয়েছেন। আসতে আসতে প্রায় রাত আটটা বেজে গেল। এসে দেখি তার চিকিৎসা চলছে। রক্ত পরীক্ষা করতে হচ্ছে সবগুলোই। CBC, HDL, … ডাক্তার এসে বললেন, ব্লাড টেস্ট শেষ হয়নি, কিছু স্যাম্পল শর্ট পড়েছে। আমি লোক পাঠাচ্ছি, তাকে স্যাম্পল নিতে সাহায্য করবেন দয়াকরে। ওদিকে ছেলের মা চিৎকার করে বলছে, কয়বার রক্ত নিচ্ছেন? এত টুকু ছেলে! এসব দেখে আর কী হবে ভেবে আমি চলে এলাম বাসায়। তাছাড়া ফিমেল ওয়ার্ডে আমাকে রাতে এলাউ করলো না।

যখন বাসায় ফিরলাম রাত বারটার দিকে।ক্যালেন্ডার তখন নতুন তারিখ নিয়ে হাজির। দেখি আমার কাছে ওনেক জন্মদিনের শুভেচ্ছা চলে আসছে। খুবই আনন্দের। আমার ছেলেদের জন্মদিন পালন করি না। ছেলের জন্মদিনে সবাই যখন অপেক্ষা করেছিল দিনটিকে পালনের তখন আমি ভুলে বসেছিলাম। আর বাসায় ফিরে বলেছিলাম, নাহ! আমাদের পারিবারিক রেওয়াজ, জন্মদিন পালন না করার। শেষে তাদের জন্মদিন ওভাবেই শেষ। অথচ গত বছর আমাদের অফিসে আমার জন্মদিন পালন হয়ে গেল। বড়ই অদ্ভুত। সেই থেকে আমাদের টীমের সবারই জন্মদিনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। এটা এখন খুবই রেগুলার! গত বছর আবু হাসান আমাদের সাথে ছিলেন। কিভাবে যেন জানতে পেরে গিয়ে আয়োজন করেছিলেন। ১৭ই জানুয়ারী সারাদিন তার সাথেই কাজে কাজে মিলে গেল। ভদ্রলোক এখন আমাদের কোম্পানীতেই নেই তবু কত কিছু মিল! দেখা হওয়া, আগের জন্মদিন পালন করা। আবার আজ জন্মদিনের কাছাকাছি তার সাথে লাঞ্চ করা। সবচে’ বড় ব্যথিত মিলটি হচ্ছে, গত বছর এই সময়ের কাছাকাছিতেই সাফওয়ান ক্রিসেন্ট হসপিটালে ভর্তি হয়েছিল!