ফেব্রুয়ারী ৪, ২০১৭ উত্তরাঃ দর্জি সার্চ

পরিবারের চার সদস্যের রিক্সা যাত্রা শুরু হয়েছে বিকাল ৫টায়। উদ্যেশ্য স্কুল ড্রেস সেলাইয়ের জন্য দর্জি খোঁঝা। বাসার আশেপাশে যত দর্জি আছে তারা সবাই লেডিস টেইলার্স। বাচ্ছাদের জামাও সেলায় তবে সেটা গার্লস। বয়েজ টেইলার্স আর খুঁজেই পাই না। রাজলক্ষ্মী, আজমপুর সেকটর ১৩, ১৪ সব খোঁজা শেষ। হেঁটে, রিক্সায় সব জায়গায় ঘুরেও যখন পেলাম না তখন হিসেবের খাতা খোলা হলো। বড় বড় অভিজাত টেইলার্স এর সার্ট এবং প্যান্টের মজুরী (৫০০+৭০০)টাকা, (৪০০+৫০০)টাকা, (৫০০+৫০০)টাকা। আর আমরা যেটা খুজছি সেখানে কত নিবে? উত্তরে বেরিয়ে এলো (২৫০+২৫০)টাকা। তাহলে সর্বনিম্ন তফাৎ হচ্ছে- (১৫০+২৫০)টাকা = ৪০০টাকা। কোয়ালিটি? অবশ্যই খারাপ হবে। কারন এত খুঁজেও যেই দামের দর্জি মিলছে না তাকে কোয়ালিটির কথা কী আর জিজ্ঞেস করবো?

প্রশ্ন উঠেছে যে আমরা এত টাকা আর তেল খরচ করে কেবল ৪০০টাকা বাঁচানোর জন্য কাজ করছি? প্রায় তিন ঘন্টা ঘোরাঘুরি শেষ। এর মধ্যে রিক্সায় ৬০টাকা শেষ। খারাপ কোয়ালিটি পাওয়ার জন্য টাকা খরচ? কতটা অপচয়?

অবশেষে পাওয়া গেল এক দর্জি। সে রাজি হলো- স্কুল ড্রেস সেলাই করবে। তার মজুরী মোট ৭০০টাকা। যেহেতু আর কোথাও কিছু খুজে পাওয়া যাচ্ছে না তাই ৭০০টাকাতেই চূড়ান্ত। এবার হিসেব করে দেখা গেলো আমরা কেবল দু’শ টাকা বাঁচানোর জন্য সর্ব মোট আড়াই ঘন্টা সময় ব্যয় করেছি। এতে সন্ধ্যার নাস্তা সহ খরচ হয়েছে ২৬০টাকা। আর আমার জীবনের দুইঘন্টা ত্রিশ মিনিটের দাম তো পাই ই নি, সাথে কষ্ট গুলো বাড়তি পেলাম।

এভাবেই আমাদের গরীবের সময় আর অর্থ দুই-ই নষ্ট হয়। আমরা বুঝি না। হয়ত বুঝতে চাই না। সময় হয়ত আমাদের কারো কাছেই দামী নয়। কিন্তু আড়াই ঘন্টা ফ্রী তে কেটে যাওয়ার মানে খুবই মর্মান্তিক। যেখানে আমি নিজে ঘুমানোর সময়ই পাই না।