নয়ে ছয়ে দুনিয়া পর্ব ২

বাংলায় বললে হবে ইমারত কিন্তু ইংরেজিতে বিল্ডিং অথবা নবাবী ভাষায় প্রাসাদ বলা যেতে পারে। ভদ্র লোক থাকেন যেই ঘরে তার বর্ননা দিতে গেলে এসব শব্দ খুঁজতে হয়। আমি শব্ধে কাঁচা তাই অত বের করতে পারিনি। মোটের উপর আমার দেখা ভাল আয়েশী ব্যক্তিদের মধ্যে এই লোক সবার উপরে। আমাকে হুট করেই নিয়ে গেলেন বেডরুমে। গিয়ে দেখি কি যে অবস্থা। মাথা খারাপ করে দেয়। লোকটার কত কি জীবনের আয়োজন।  নবাবী ধাঁচের বিছানা, বালিশে পাখির পালকের স্পর্ষ, ঘরের ডিজাইন করেছেন পুরনো আমলের কিছু নকসা থেকে। জাদুঘরের কিছু পুরনো নিদর্শন এসে ধরা দিচ্ছে এখানে। তবু কেন যেন মনে হয় আমি এসব দেখা ঠিক হচ্ছে না, লোভ এসে যাচ্ছে। মানুষের সম্পদ দেখলে মানুষের লোভ হবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু সেটা সমাজে নিষিদ্ধ আছে। আহারে! কে পেরেছে লোভ সংবরণ করতে? অথচ সবাই বলবে, এটা ভাল নয়। তবে লোভ করে অন্যের সম্পদ নিজের ভাবা ঠিক নয়।

দেয়ালে পেইন্টিংস , মনে হবে কোন এক স্টুডিওতে ঢুকে পড়েছি। একটা পেইন্টিং আছে আপত্তিকর। আমি কিছু মুহুর্ত সেদিকে তাকাতেই ভদ্রলোক জানতে চাইলেন, আপনি কি ভাবছেন আমি খুব বাজে লোক? আমি এসব ঘরের মধ্যে বেঁধে রেখেছি?

জবাব দিলাম না। হঠাৎ করেই আমার মনে হতে শুরু হল এই লোকটা অনেক ক্ষমতাধর। যখন তখন অনেক কিছুই করে ফেলতে পারে।

কি ব্যপার বলুন তো কিছু না বলে চুপ মেরে গেলেন?

আমি কিছুটা নড়ে চড়ে বসলাম। বেশি কিছু বলা যাবে না, মনের মধ্যে এখন যে ভয় ঢুকে গেছে তাতে উলটাপালটা কিছু বেরিয়ে যেতে পারে। তারচে চুপ করে থাকা কি ভাল নয়?  এক গ্লাস পানি খেয়ে বোঝানো যেতে পারে যে আমি ভয় পেয়ে গেছি। এমনিতেই আমি কিছুটা কনফিডেন্টলেস মানুষ। নিজের ভেতরে একটা রিকশাওয়ালার কনফিডেন্ট নাই।

সোজা উঠে গিয়ে এক গ্লাস পানি ঢেলে ক্ষেতে শুরু করলাম। পালাই পালাই করতে শুরু করল মন। তবু পানি গিলে আবার তার কাছাকাছি এসে দাঁড়ালাম। বললাম, ভাল লাগছে না, শরীর খারাপ করতে শুরু করেছে।

তিনি বললেন, আহা, বলেন কি? আপনি কি খুব দুর্বল অনুভব করছেন? তবে বসুন এখানে, আমি আসছি ।

হাঁটা শুরু করলেন। ভিতরে কোথায় গেলেন কে জানে। তবে কিছু একটা আনবেন সেটা পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে।

 

চলবে……

 

পর্ব-১