দান করাও হয়ত অন্যায়- কখনো ভেবেছেন?

‘প্রদান’ আর ‘দান’ এর মধ্যে অনেক মিল। কাউকে সাহায্য করার জন্য যদি কিছু প্রদান করা হয় তবে তা দান হিসাবে ধরা হয়।
অর্থ দান আমাদের #সমাজে অনেক বেশি দেখা যায়। যে কোন পরিমান। মানুষ অনেক জায়গায় দান করে। ভিক্ষুক, দরিদ্র, অসহায় কিংবা #মসজিদে মন্দিরে গির্জায়, এতিমখানা বা মাদ্রাসায় মাজারে। এর জন্য সব জায়গায় আবার দানবাক্স রাখা হয়। দান করাও হয়ত অন্যায়- ভেবেছেন কখনো?

সত্যি হলেও মানুষের মনে থাকে না। #দানশীল ব্যক্তিকেও পরকালে তার দানের হিসাব নেয়া হবে। বলা হবে তুমি মোট ৫০০০০০…টাকা দান করেছ অথচ কারোরই কোন সমস্যা সমাধান করতে পারনি। তুমি অপচয় করেছ। মানুষকে #খারাপ কাজে প্রেরণা দিয়েছ।

দান করাই শেষ নয়। দান করাও হয়ত অন্যায় হতে পারে!

সব দানশীল ব্যক্তিকে #আল্লাহ পচন্দ করেন না। যেমন মসজিদে দান করা। অনেক কারন আছে। যেমন মসজিদ যত সুন্দরই হোক না কেন সেখানে দানবাক্স সক্রিয় থাকে। এসি থাকার পরও মসজিদের অভাব দূর হয় না। আরো কারন হলো- মসজিদে দান কেন করতে হবে? এটা অবশ্যই আপনার বাড়ির আবশ্যক খরচের মত বহন করা উচিত। বাসায় ভাড়া দিয়ে থাকেন যদি তবে মসজিদেও মাসিক একটা পরিমান অর্থ প্রদান আবশ্যক। একে দানে রূপান্তর অন্যায়ই।

দান হওয়া উচিত অসহায় মানুষের কল্যানে, তাদের সামান্য #উপকারে নয়, সমস্যার সমাধানে। দু’টাকা দান করাই যদি আপনার সাধ্য হয় তবে তা পরবর্তী সময়ের জন্য জমিয়ে রাখাই উত্তম #সিদ্ধান্ত। জরুরী কোন সমস্যায় মাত্র দু’একশ টাকা দিয়ে কেটে পড়া অন্যায়। দান করাও অন্যায় হতে পারে । সাধ্য না থাকলে অন্যকে জানান। তবু দুটাকা দিয়ে কাউকে #ভিক্ষুকে পরিনত করা উচিত নয়।

মানুষ মানুষের পাশে আগের মত দাঁড়ায় না।দাঁড়াতে সাহস পায় না হয়ত। তা না হলে পথে ঘাটে মানুষের কত দেখা মেলে। সহযোগীতার কোন চেষ্টা নেই। অথচ দশ টাকা পাঁচটাকা তো সবাই দেয়। যে ভিক্ষুক সেও ভিক্ষা দেয়। মজার দুনিয়া। কত মজা যে মানুষ চায়। সব চেয়ে বড় আক্ষেপ হচ্ছে, কেউ কারো মর্ম বুঝতে চায় না। সবই যেন অর্থের বিনিময়ে করা যায়। মমতা সহানুভুতির আশপাশে কেউ থাকে না। দরকার একটু সাহায্য, টাকাই যেন সমাধান।

একটু ভাবুন তো, মূমুর্ষ কোন পথচারীর বেলায় কি হবে যদি আপনি শুধু মাত্র সামান্য কিছু টাকা দিয়েই কেটে পড়েন? সে যদি মরে যায়, বুঝাতে পারবেন আপনার মনকে? তাই আমার মনে হয় দান করাই আসলে শেষ কিছু নয়। দান করাও হয়ত অন্যায় হতে পারে।