ডায়েরীর পাতা ১৪-০৯-২০১৫

ডায়েরীর পাতা ১৪-০৯-২০১৫

যন্ত্রের কাজই নাকি যন্ত্রনা দেয়া, তবে সে তৈরি হয় কিন্তু সেবা দানের জন্যই। তাহলে যন্ত্রনাটা কী? পার্শপ্রতিক্রিয়া।
আমার এক পিস মোবাইল ফোন আছে যা প্রতিদিন একবার করে যন্ত্রনা দিবেই। জরুরী কোন কল এলে দেখা যাচ্ছে স্ক্রীন ফ্রীজ হয়ে যায়। আবার রিষ্টার্ট দিতে হয়। টাচ প্যাডের জন্য অন্য কোন সহজ উপায়ে রিষ্টার্ট দেয়াও যায় না। অভিনব কায়দায় দিতে হয়।
আমার একটা পিসি আছে, প্রতি মাসে তার একবার করে সমস্যা হবেই। এই বার র‍্যাম ডাবল করে দিয়েছি। দেখি এবার কী করে। আমার পিসিতে আমি কোন দিন বাইরের লোক দিয়ে OS ইনস্টল করি নি। নিজেই করেছি, লিনাক্স করেছি কত কিছু। এইবার পুরাই ধরা খেয়ে গেছি। অপারেটিং সিষ্টেম সহ নিজে না পেরে দোকানে গিয়ে দিতে হয়েছে। বাসায় বুটিং নিচ্ছিলোই না। এটা মহা যন্ত্রনা ছিল।

আমার একটা ওয়াফাই রাউটার ছিল, বেশ আরামেই ব্যাবহার করছিলাম। হঠাৎ একদিন কাজ করা বন্ধ করে দিল। ডিবাইস কানেক্ট করে কিন্তু নেট এক্সেস দেয় না। মহা যন্ত্রনা। তাই ব্রডব্যান্ড লাইন খুলে সোজাসুজি পিসিতে লাগিয়ে দিয়েছি। সার্ভিস প্রোভাইডারদের বলায় ওরা দু’বার ট্রাই করে গেছে। পারে নি। ওরা অবশ্য প্রথম ইনস্টলেশনেও পারেনি । আমার হেল্প লেগেছিল।

যন্ত্রপাতি নিয়ে আমার ইতিহাস খুবই খারাপ। কোন ঘড়ি কিনলেই খুলে সেটার তেরটা বাজাতাম। আগে রেডিও কেনাটাও শখ ছিল। খুলে তার চৌদ্দটা বাজানোও শখ ছিল। একটা টেবিল ক্লক কিনেছিলাম। ক’দিন পরে হঠাৎ খুলে ফেলে আর কিছুতেই ফিট করতে পারছিলাম না। মেকানিকের দোকানে যেতেই ওরা বলেছিল- এটা ওয়ান টাইম । শেষ। বাসায় এসে সেটাই ঠিক করে ফেলি। তখনো যন্ত্রপাতি আমাকে যন্ত্রনা দিত। আমিও দিতাম। তাদের যন্ত্রনায় রাখতাম।

এখনো কি আমি যন্ত্রনা দেই যন্ত্রদের? সেরকম মনে হয় না। তবে ওরা আমাকে প্রচুর ভোগায়। প্রবাদ আছে- একজন খারাপ মানুষ তার যন্ত্রদের সাথে ঝগড়া করে। সে ভিত্তিতে আমি মহা খারাপ মানুষ। হাহাহা।