ঝাঁজটা আসলে কার, পেয়াজের না মিডিয়ার? পিয়াজ কিনেছেন কি আজ?

আজ রবিবার সকাল বেলা অফিসের উদ্দেশ্যে বের হয়েছি মাত্র। এর মধ্যেই চোখের সামনে পড়ে গেল একটি পেয়াজের ভ্যান। হঠাৎ করেই জানতে ইচ্ছে হলো দাম কত? কয়েকজন হুড়মুড় করেই ছুটে এলেন, ভাই দাম কত দাম কত? জানা গেল দাম মাত্র ৭০টাকা। আগ্রহ আমারো একটু বেড়ে গেল। তাই মনে মনে অনেক চিন্তা করলাম, এক কেজি কিনে নিয়ে যার কি? না, থাক, এখন অফিসে যাচ্ছি আসার সময় কিনবো বলে তখনকার মত চলে যাই।

কিছু দিন আগেই পিয়াজ কিনলাম মাত্র ৯০টাকা দরে। তার দুদিন পরেই সেটা আবার ১২০টাকা দাম উঠলো। আর তাই পেয়াজ কেনাই ছেড়ে দিয়েছিলাম। আজকের এই দামটা দেখা মাত্র কেনার লোভটা ছাড়তে পারি নি। সারাদিন কাজের মাঝে মাঝে এই পিয়াজের কথাটাও মনে ছিল, একটুও ভুলি নি। ফের বাসায় আসার পথে আবারো ফুটপাথের হকার বিক্রি করছে পেয়াজ। দাম জিজ্ঞেস করতেই জানা গেল মাত্র পঞ্চাশ টাকা কেজি। তফাত নেই কোন, সেই একই পেয়াজ। দাম কমে গেল এক দিনেই ৩০ টাকা।

পিয়াজের দাম বাড়ার এবারের ইতিহাস খুব বেশি দিনের নয়। ভারতের একটি টিভিতে অর্থাৎ মিডিয়ার প্রচার হয়েছিল, সেখানকার পেয়াজের ফলন কম হওয়ায় এবার তারা লোকাল চাহিদা মেটাতেই হিমশিম খাবেন। তার পরদিনেই দেখা গেল আমাদের মিডিয়াতেও একই খবর আসে, ভারতে পেয়াজের ফলন কম, আমদানী মুল্য বাড়ছে।  আর সাথে সাথেই দাম বেড়ে গেল এই ঝাজওয়ালা পেয়াজের। মানুষের মাঝে দেখা গেল চরম হতাশা, দাম পচিশ ত্রিশ থেকে উঠে গেল আশি কিংবা নব্বই। একদিনেই কি সেই বাড়তি আমদানিকৃত পেয়াজ চলে এসেছে সকল দোকানে? আশ্চর্য! অনেকেই আপসোস করেছেন আগে কেন কিছু বেশি পেয়াজ কিনেন নি। আমি নিজেও সেই একই আপসোস করি। তবু উপায় কি?

সে যাই হোক ঝাজ কমেছে পিয়াজের, কিভাবে বেড়েছিল এই পিয়াজের ঝাজ তা হয়ত অনুমেয়, সঠিক কিছু কি বলতে পারবো? তবে তথ্য কেবল ছড়ানোই সার, কার্যকর হতে একটু দেরি হয় না। কে যে এই আইন কার্যকর করেন, সেই বিষয়টি অজানাই থেকে গেল হয়তো। দাম বাড়ানোর ব্যাপারে যত আগ বাড়িয়ে করা হয় , কমানোর বেলায় ততটা কিন্তু নয়। তবু কমে যাচ্ছে।

দেশি পেয়াজের ক্ষেত্রটা বলি এবার। দেশি পেয়াজের দাম সেই সাথে একক লেভেলে চলে গিয়েছিলো। আগে দেখতাম ভারতীয় পেয়াজের দাম কম কিন্তু দেশি পেয়াজের দাম বেশি থাকত। এবার এই পর্যায়ে দেখা গেল দু’জন দেশী বিদেশী ঝাজওয়ালা বস্তু দরদামে একই জায়গা দখল করে নিয়েছেন।  কারন কি ছিল তা জানেন না আপামর জনতা, তাই দেখে যাবার মত খেয়ে না খেয়ে পেয়াজের অভ্যাস-ই আমি চেয়েছিলাম বদলে দিতে। এবার আবার সেই পুরোনো অভ্যাস চালু করে দিব, পেয়াজের দাম কমছেই যেহেতু খেতে সমস্যা কি?

তবু ঝাজের সুত্রটা ক্লিয়ার হলো না, জনগনের ঝাজ যে নেই একেবারেই তা আমার মতো পেয়াজের অভ্যাস বদল করা থেকে কিছুটা অনুমান করতে পেরেছেন নিশ্চয়।

 

ি মন্তব্য এসেছে -“ঝাঁজটা আসলে কার, পেয়াজের না মিডিয়ার? পিয়াজ কিনেছেন কি আজ?