জন্মদিন

জন্মদিন এর শুভেচ্ছা! ২০১৭

আজ জন্মদিন এর শুভেচ্ছা এত বেশি পরিমানে এসেছে যে আমি রেসপন্ড করতে পারিনি সে মত। এটা অন্যায়। মানুষ ভালবেসে তাঁর জীবনের কয়েক মুহুর্ত আমার পেছনে নষ্ট করছেন,  আর আমি তাঁর সাথে প্রতিউত্তরে কিছুই বলছি না। এটা অন্যায়। জন্মদিনের শুভেচ্ছায় এবার একটু ঝামেলা হয়েছে। গতকালের একটা আলাপে বলেছিলাম। আমার ছেলে সাফওয়ান অসুস্থ্য এবং তারে আজ হাসপাতাল থেকে বাসায় আসতে দিয়েছে অনেক কড়া নির্দেশনায়!

সারাদিন অফিসে তো যা ই নি তার উপর হাসপাতালের ঝামেলা। এখন ঝামেলা বিহীন চিকিৎসা নেই বললেই চলে। সাফওয়ানের  ডাক্তার গেছে বদল হয়ে। একজন শিশু বিশেষজ্ঞ দেখছিলেন গত দুইদিন ধরে। অথচ হাসপাতালে ভর্তি হবার পর এক পর্দানশীল মহিলা এসে হুমকি ধামকি দিয়ে চিকিৎসা শুরু করে দিলেন। প্রাইভেট হাসপাতাল। এখানে যে ডাক্তার চেম্বারে দেখেন তিনিই ক্লিনিকে পর্যবেক্ষন করেন। কিন্তু তা হলো না ডাক্তার বদলে গেল। চারদিকে যে সব শোনা যায় চিকিৎসার নামে তাতে আমার নিজেরই অস্বস্তি হতে শুরু করেছে। এদিক ওদিক গিয়ে খোঁজ নিলাম ডাক্তার পরিবর্তনের ব্যপারে কেউ জানে কি না। নার্স বলল, আপনি ডিউটি অফিসারের সাথে কথা বলেন। গেলাম ডিউটি অফিসারের কাছে। এক ভদ্র মহিলা তখন ডিউটিতে ছিলেন। তাকে ঘিরে দু’জন ওষধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভ বসে আছে। আজকাল এদের জ্বালায় ডাক্তারের সাথে কথা বলাই দ্বায় হয়ে গেছে। ডাক্তারের সাথে মানুষের অন্তরংগ কথা থাকে। সব এদের সামনেই বলতে হয়। ফালতু মার্কা ডাক্তারেরা এদের এলাউ করে। কিন্তু ইদানিং অনেক ডাক্তার এসব এলাউ করেন না।

ডিউটি অফিসার বললেন, এখন কিছুটা ভাল আছে। তবে ম্যাডাম বলেছেন তিনি না আসা পর্যন্ত কিছুই বলা যাবে না। ওদিকে এখনো টেষ্ট শেষ হয় নি। মল মূত্র দু’টাই টেষ্ট এ আছে। গতকাল  তো গেছে ব্লাড টেস্ট।

আমি জানতে চাইলাম, বিশেষজ্ঞ ডাক্তার কিভাবে পরিবর্তন হলো?

সে বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুরা ফাইল পড়লেন। এটা নিশ্চিত হলো যে এই রোগীকে দু’জন বিশেষজ্ঞ দেখছে। প্রথম জন এখন আর মনিটর করছেন না। কিন্তু জবাব দিতে পারলেন না। আমাকে বললেন যে আপনি রিসিপশনে গিয়ে কথা বলতে পারেন। ওরা হয়ত জানে।

রিসিপশনে গেলে ওরা বলল, আমরা তো জানি না। কিভাবে কী হলো ম্যানেজার জানেন। তাঁর সাথে কথা বলে দেখতে পারেন।

আমি ম্যানেজার কোথায় পাব? সে নাকি বেশিরভাগই থাকে ডাক্তারদের চেম্বারে চেম্বারে। কখন কোন চেম্বারে আছে এটা কেউই জানেন না। অগত্যা বর্তমান ডাক্তার দিয়েই চিকিৎসা চলতে লাগল।

অনেক পরে জানা গেল যে, প্রথম ডাক্তার  তারই খুব ঘনিষ্ঠ একজন কে এই রোগী রেফার করেছেন। সম্ভবত তিনি এই রোগী সম্পর্কে কম বোঝেন নতুবা যাকে রেফার করেছেন তাঁর অভিজ্ঞতার জন্য। অথচ এই দু’জনেই প্রফেসর! জরুরী এই ইন্টারচেঞ্জ এর বিষয় যে রোগীর বাবা মা কিংবা কাউকে জানানো দরকার, সেটা তাদের মনেই ছিলো না!

জন্মদিন এভাবেই কেটে গেল। যারা শুভেচ্ছা জানিয়ে ফোন, শর্ট মেসেজ কিংবা সোশ্যাল মিডিয়ার ইনবক্স ব্যস্ত রেখেছেন তাদের সকলেরই দীর্ঘায়ু কামনা করছি।