পিকনিক

গাজীপুরে রিসোর্টে সারাদিন ২৯শে জানুয়ারী ২০১৭, ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা

গন্তব্য ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা এ। সকাল ৭টায় অফিসের বাস ছেড়ে যাবার কথা ছিলো। ঘুম থেকে কোন মতে উঠতে পেরেছিলাম। শেষে পৌঁছালামও যথা সময়ে। তখন সাতটা বাজার আরো দুই মিনিটের মতো বাকী। আমি জানতাম কিছুক্ষন দেরি করবে। টাইট টাইমিং দিতে হয় সামাজিক মানুষগুলোকে যথা সময়ে কোন অনুষ্ঠানে আনার জন্য। প্রথম সময় হচ্ছে ৬ঃ৪৫মিনিটে সবাই বাসে উঠবেন। সকাল ৭টায় বাস ছেড়ে যাবে। কেউ যদি এই সময়ে বাসে উঠতে না পারেন তিনি নিজের খরছে ঘটনাস্থল মানে পিকনিক স্পটে চলে যাবেন।

কিন্তু কথা কাজ সেমতো হয় নি। কাজের কাজ শুরুর দিকে দেখা গেল বাস নাম্বার ৭ এর কো-অর্ডিনেটর সাহেব আসেন নি। তিনি তখনো রাস্তায়, কুড়িল বিশ্বরোডের দিকে। আসছেন। আরো দু’জন পাওয়া গেল, তারা খিলক্ষেত আর একজন উত্তরায় তবে তার আরো পাচ মিনিট সময় লাগবে গাড়িতে উঠতে। এই হচ্ছে, টাইমিং। এখন থেকে আয়োজকরা ভাবছেন, দুই বার টার টাইম না রেখে একবার টাইম ফিক্স করবেন। এতে সুবিধা হচ্ছে, প্রথমে যে আসবেন তাকে দ্বায়িত্ব দেয়া হবে বাকীদের আনার। ফোন করবেন, আর তাগাদা দিতে থাকবেন। যখন আসবেন তখন শুরু হবে!

সেই যাই হোক, আমাদের আয়োজন সফল করার জন্য মরিয়া হয়ে কমিটির কাজ শুরু হয়ে গেল। বাস ভর্তি হতে লাগল। ৭:৩০ মি এ সবাই রওনা হই। টংগী থেকে জয়দেবপুরের ট্রাফিক জ্যাম সবারই জানা। এই জায়গা পার হতে প্রায় ঘণ্টা খানেক লেগে গেল। তার পর লাগল মাত্র বিশ মিনিট। পৌঁছে গেলাম ভাওয়াল রিসোর্ট এন্ড স্পা এ। এখানে বাস নিয়ে যখন হাজির তখন ঘটল আরেক মজার কান্ড! সিকুরিটি জিজ্ঞেস করলো, আপনাদের বুকিং কী? কোম্পানীর নাম বলায় সে জানাল, এই নামে কোন বুকিং নেই। কী আর করা, কমিটির যে মেম্বার আমাদের বাসে ছিলেন তিনিও জানেন না কী নামে বুকিং। শেষ পর্যন্ত সিকিউরিটি নিজেই বলল, …(কোম্পানী)? নাকি ………(এক জনের নাম)? নামটি ছিলো কমিটির প্রধানের। নামের উপর বদনাম না করে একমত হয়ে ভেতরে প্রবেশের অধিকার নিলাম। শুরু হলো দিনের কার্যক্রম।

ওয়েলকাম নাস্তা শুরু করে দিল আগের বাসের যাত্রীরা। তাদের সবারই খাবার নেয়া শেষ হতেই আমাদের গাড়ির যাত্রীরা লাইনে নাশতা নিতে দাঁড়িয়ে গেলেন। খিছুড়ি, পরোটা আর মুরগীর তরকারী ছিলো সকালের বুফে লুফে নেয়ার মেন্যু। লুফে নিতে দেরিও হয় নি।

তারপর একে একে যে যার কর্টেজে গিয়ে জামা কাপড়ের পরিবর্তন নিয়ে এলেন গায়ে, চেহারায়। সবাই এবার একটি মাঠে জড়ো হলেন। কিছু একটা হতে চলেছে জনমনে। উল্যেখ্য যে আমরা প্রায় ১৭০জনের একটি টিম ছিলাম। তাই মাঠে জড়ো হতে দেখে অনেকেই তাকিয়ে ছিলেন।

বস্তা দৌড় খেলা, মার্বেল চামুচ মুখে নিয়ে দৌড়, আরো ছিলো ডান্স, বল ক্যাচ এর মত কিছু সাধারন ক্রীড়া প্রতিযোগীতা। সুইমিং পুলে অনেকেই সাঁতার প্রতিযোগীতার মত কিছু করেছিলেন।

বিকেলে ডি জে আর হিন্দি বাংলা মিউজিকের তালে নৃত্য দৃশ্য দিয়ে শেষ হলো পুরো ইভেন্ট। পুরষ্কার বিতরনীও ছিলো।

আবার বাসে হেড কাউন্ট দিয়ে ফেরার পথ ধরা।

Save

Save

Save

Save