ঈদ পালন

ঈদ মোবারক! ঈদ পালনে অংশগ্রহন

আমাদের দেশে প্রতি বছর দু’বার ঈদ আসে। ঈদ আসলেই মানুষের মধ্যে অনেক আগ্রহ দেখা দেয়। নানা ধরনের উপলব্ধি আর অনুভূতির প্রকাশ ঘটে ঈদের আনন্দের সাথে সাথে। ঈদ সম্পর্কে কিছু কথা বলা দরকার। ঈদ হচ্ছে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব। ইসলামের নির্দেশ অনুযায়ী দু’টি ভিন্ন ভিন্ন কারনে এই ঈদ পালন করা হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে ঈদ উল ফিতর অন্যটি ঈদ উল আযহা।

ঈদুল ফিতর পালনের কারন হচ্ছে পুরো রমজানে সিয়াম সাধনার মাধ্যমে যে ত্যাগ আর অনুরাগ আল্লাহর সাথে তার বান্দা প্রদর্শন করেন সেই বিশেষ অনুদান হিসেবে ঈদ আসে। ঈদুল ফিতর অর্থ হচ্ছে, রোযা ভাংগার দিবস। বা পুরষ্কার দিবস। আনন্দ লাভ করা এই দিবসের জন্য সঠিক।

ইসলামে যা কিছু গুরুত্বের সাথে দেখা হয়েছে তার বেশিরভাগই হচ্ছে সামাজিক বৈষম্যকে কমিয়ে আনা। রমজান বা রোজার উদ্যেশ্য সেরকমই। ক্ষুধার্তের যন্ত্রনা বুঝতে পারার মানসিকতা তৈরী করা, আবার ঈদের নামাজের আগেই ফিতরা(একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ) গরিবকে দান করা এর সবই সামাজিক বৈষম্য কমানোর উদ্যোগ। মহান আল্লাহ এরকম উদ্যোগ নিয়ে মানুষের মধ্যে আগ্রহের সৃষ্টি করেছেন, আল্লাহ নিজেই বলেছেন, রোজাদারের পুরষ্কার তিনি নিজ হাতে দেবেন। তার মানে, যারা রোজা পালনে সফলতা দেখিয়েছেন, আল্লাহর আনুগত্য লাগের চেষ্টা করেছেন আল্লাহ তাদের জন্য অনেক পুরষ্কার রেখেছেন। ঈদ তো হয়ত অনেক বেশি সামান্য।

কিন্তু রমাযানে রোজা রাখার কারন উপলব্দি করতে পারা মানুষের সংখ্যা অনেক কম। তারা শুধু আখেরাতের সওয়াব আর পুরষ্কারের আশাতেই আছেন। দুনিয়ার যে আরো দ্বায়িত্ব আছে তা তারা জানার চেষ্টাও করেন না। তাদের জন্য সত্যি কোন পুরষ্কার আছে কি না আল্লাহ ভাল জানেন।

ঈদ পালন

ঈদ মানে উৎসব। সবাই পালন করেন। সব ধর্মের মানুষের ঈদ পালন দেখতে অনেক ভাল লাগে। তার কারন ভ্রাতৃত্ব বৃদ্ধি পায়। ধর্ম মানুষের জন্য কোন বর্ডার হয়ে উঠতে পারে না। তারপরেও ব্রিটিশ ভারতের দেশ ভাগ হয়েছে ধর্ম দিয়েই। ধর্মের ব্যবহার সব বেনিয়ারাই করেছেন। এখনকার ব্যবসায়ীরা ঈদ যেমন তাদের ব্যবসার জন্য স্পেশাল মনে করেন তখনকার দিনেও এমন ছিলো।

সে যাই হোক, ধর্মীয় দৃষ্টি থেকে সরে আসি। সামাজিক দৃষ্টি থেকে এত বড় উৎসব পালনে আমাদের দেশের প্রস্তুতি থাকে অনেক বেশি। ঈদ পালন করা অনেক সহজ। কিছু বাহারী জামা কাপড় যার যার সাধ্য অনুযায়ী কিনে সেটা পরে সবার সাথে কোলাকুলি করা। বেড়াতে বের হওয়া, বন্ধুদের মধ্যে আড্ডা, বাসায় মহিলাদের মধ্যে গল্প গুজব আর টিভিতে নানান অনুষ্ঠান দেখেই ঈদ পালন সমাপ্ত হয়। কারো কারো আবার থাকে ভিন্ন আয়োজন। বিদেশ ভ্রমন কিংবা দরিদ্রদের একবেলা পেট ভরে খাওয়ানো ইত্যাদি।

মিষ্টি জাতীয় খাবার ঈদুল ফিতরে বেশি আয়োজন করা হয়।

তবে এত সহজে ঈদ পালন করা হলেও যে কারনে ঈদের শুরু হয় তা কখনোই মনে রাখে না কেউই। মসজিদের ঈমাম যেমন মনে রাখে না যে তাঁর উপরেও যাকাত ফরয আছে তেমনি সমাজের বিত্তবান ব্যক্তিরাও ভুলে যান কেন রমজানের মত এত কঠোর আয়োজন করা হয়েছিলো। আবার কেনই বা সে রমজানের পরেই ঈদ পালন করতে হয়? হয়ত বুঝতে পারার ভুল হবে সব কিছুই।

আসুন ভুলে যাই অনেক বিতর্ক, এবারের ঈদ হোক আমার আপনার সবার জন্য দরিদ্র মানুষের কল্যানে কিছু করার। তা না হলে রাস্তায় যে পকেট মার হয়ে যায়  কিংবা এরকম অপরাধ আরো বৃদ্ধি পেতে পারে।