poor people

ঈদের অনুভূতি!

ঈদের ছুটি আসলেই আমার আলস্য শক্তি কয়েক গুন বেড়ে যায়। বিছানা হয়ে যায় স্থায়ী আবাসন। এবারের ঈদের ছুটিতে তার ব্যতিক্রম নয়। তবে আমি অভ্যাস পরিবর্তন নিয়ে কাজ করছি। তারই ধারাবাহিকতায় আজ বের হয়েছিলাম উত্তরার রাজলক্ষ্মী এলাকায়।

অনেক মানুষ। হাঁটার মত জায়গাও নেই, সবাই কেনাকাটা করছেন। বাটা শো-রুমে গেলাম এক জোড়া জুতা কেনার আশায়। এবারের জুতোর দাম আগের বারের চেয়ে কিছুটা বেশি। একই জুতো পরে আছি দাম এখন ৮০০টাকা বেশি। তাই পুরনো জুতা পরেই ঈদ কাটাবো ভাবছি। কী দরকার এত বেশি টাকা দিয়ে জুতা কেনার? একটু অভাবেও আছি। অভাবে স্বভাব নষ্ট। তাতে ঈদের কেনাকাটাও নষ্ট!

ফেরার পথে চোখে পড়ল ফ্রেন্ডস ক্লাব মাঠের সদর দরজায় শতাধিক দরিদ্র মহিলার একটা অপেক্ষমান অগোছালো ভীড়। বুঝতে পারছি না এখানে এরা কেন এসেছেন, হয়ত যাকাতের কিছু না কিছু নিতেই এসেছেন। এখন আমাদের দেশের ধনীরা যাকাতের শাড়ি লুংগী ফতুয়া আরো কত কী কিনে এনেছেন দরিদ্রদের দেবার জন্যে। আর দরিদ্ররাও সেটা পাবার আশায় ভীড় করেন। অনেকে পদ দলিত হয়ে মরেও যান। এসব খবর প্রতি বছর কাগজে ছাপে। যখন খবরের কাগজ পড়তাম তখন চোখে পড়ত। এখন আর কাগজ পড়িনা। খবর দেখে কী লাভ? সেই তো দরিদ্ররা ভীড় জমায়, মারা যায়, আবার ভীড় জমায়, আবারো মরে… জেনে জেনে কী উপকার হয়। খবরের কাগজেরও হয়ত বিক্রি বাড়ে না। মজার ব্যাপার হচ্ছে, এই গরিব মানুষগুলো জানে কিভাবে যে ধনীরা যাকাতের কিছু বিতরন করবে?

গরীবের অভাবে স্বভাব অনেক আগেই নষ্ট হয়ে গেছে। তাই তারা হারাতে হারাতে শেষে এরকম একটা দুইটা কমদামী শাড়িও আর হারাতে চায় না। এজন্যই হয়ত আসে। মাছ ধরতে বড়শি ফেলা হয়, খাবারের ফাঁদে কত মাছ মরে যায়। কিন্তু তাতে কী, মাছ তো আবারো বড়শি গিলে নেয়। চলছে অনেক দিন ধরেই।

কিন্তু ধনীদের একি স্বভাব হয়েছে? তাদের সম্পদ বেশি হয়েছে বলে তাদেরও স্বভাব নষ্ট হয়েছে? যাকাত দেয়া তো কাউকে দান করা নয়। কারো অধিকার তাকে ফিরিয়ে দেয়া। আর তা হলো- গরীবের অধিকার, ধনীর সম্পদে। সে অধিকার নিতে এসে মরে যাবে তারা? এ কেমন স্বভাব তাদের যারা এরকম বিতরনের আয়োজন করে?