ঈদুল আযহা এবং আমাদের দেশীয় মনোভাব

কুরবানীর ঈদ মানেই হল পশু কোরবানী করা। একথা অনেক পুরোনো। তাই কোরবানী এলে মানুষের স্বভাব একটু পালটে যায়। যে যার মত করে ছুটে চলেন পশুর হাটে। টার্গেট সবার-ই এক-‘ বড় পশু কেনা এবং আশপাশের  সবার থেকে প্সহুর সাইজে এগিয়ে  থাকা ‘ তাই একেক জন মানুষ বনে যান প্রতিযোগী হিসেবে। কেউবা হিসেব করেন কত অল্প টাকায় হারিয়ে দিতে পেরেছেন তার নিকটতম প্রতিবেশীকে। কেউবা আবার হিসেব করতে বসে যান, এই সাইজের গরু দিয়ে এবার প্রেস্টিজ থাকবে তো? গরুর সাইজ দিয়ে আজকাল তেমন কিছুই হয় না, তাই আমাদের বড় শহর গুলো উটের বাজারে বেশ জমাট বাঁধছে। এই পুরো মাস জুড়ে এর রেশ হয়তো রয়েই যাবে। তাই বলে কিন্তু এই ঈদটা মোটেও অনর্থক নয়। হিসেব মিলূক আর না মিলুক ফ্রীজের যে কয়টা কেবিন আছে সব ক’টি পুর্ন না হলে ঘিন্নি আবার ঘেউ ঘেউ করে বসে।

মজার ব্যাপার হল, পুরো এক বছর যদি এই মাংশ না যায় তো কেমন হবে এই ঈদের কষ্ট? কত কষ্ট! পশু কাটা, ছোট ছোট টুকরা করা, প্যাকেট করা, গরীব – ফকিরনীর বাচ্চারা যেন চুরি না করতে পারে পাহারার ব্যাবস্থা করা, ওহ! সাঙ্ঘাতিক কাজ রে বাবা।

এটা আমাদের সমাজে ৯০ ভাগ ক্যারেক্টারে আছে। আপনি খেয়াল করে দেখুন। অথচ কোরবানী মানে কী ছিল এই? নেভার এভার। এটা ছিল নিচক একটি পরীক্ষা। আর সে পরীক্ষা ছিল মহান ত্যাগের। ভালবাসা আর ত্যাগ দুটোর খুব উচিৎ ব্যবহার। ইব্রাহিম (আঃ) যেটা করেছেন।

কোরবানীর নিয়ম অনুযায়ী যার যা সামর্থ আছে তা দিয়ে এই ত্যাগের স্বীকৃতি দেয়া। আমাদের বিবেক কে বুঝতে দেয়া। শুধু পশুর মাংশ রক্ত একাকার করে দিলেই কি শেষ? তা হয়না। নিয়ম ছিলো গরীব দুঃখীদের তিনভাগের একভাগ বিতরন করা, কেউ করে কিনা আমি জানি না। অনেকেই হয়ত করেন। যারা অনেক সামর্থবান তারা হয়ত করেন। মিডিয়াম রা করেন না। তাই যিনি এটা করতে পারেন না, তাকে এই কাজে অংশ না নেয়ার পরামর্শ দিচ্ছি। কুরবানী আপনার সুবিধার জন্য নয়, গরীবদের দুবিধার্থে। প্লিজ ভেবে দেখুন, এবং সেভাবে এগোন।

ি মন্তব্য এসেছে -“ঈদুল আযহা এবং আমাদের দেশীয় মনোভাব

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না।